Story

ভয় : The Frightened Face

1 Mins read

আজ প্রায় ৪ মাস হয়ে গেলো করোনা ভাইরাসের কারণে সবকিছু বন্ধ। সবাই গৃহবন্দী। মানুষ সূর্যের আলো খুব কমই দেখতে পায়। লিমনের এ ব্যাপারটা আর ভালো লাগছে না। ও সারাদিন আড্ডাবাজি আর ঘুরে ঘুরেই কাটিয়ে দিতো। দেশের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে, ঢাকার অলিতে গলিতে ও নিজের পদচিহ্ন রাখতে ভালোবাসতো। কিন্ত বিগত ৪ মাসে ও কোথাও যায়নি। সারাদিন বাড়িতে বসে কাটাচ্ছে। ভার্সিটির বোরিং অনলাইন ক্লাস আর টরেন্ট সাইট ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন সিরিজ দেখেই মোটামুটি ওর দিন যাচ্ছে।
কিন্ত এখন আর তেমন কিছু দেখার বাকি ও নেই, লিমনের উইশলিস্টের প্রায় সব সিরিজ আর মুভি ই দেখা শেষ। বিদঘুটে এক বিষাদতা আর একাকিত্ব ছেয়ে ধরেছে লিমনকে। নাহ, ওর কোন গার্লফ্রেন্ড নেই। সারাজীবন নিজেকে আলাদা রাখতেই ভালোবাসতো লিমন। কিন্ত এখন ওর একা লাগে, বড্ড একা। কেমন যেন এক অদ্ভুত অনুভূতি, “ইসস,যদি একটা গার্লফ্রেন্ড থাকতো, তাহলে এত বোর হতাম না। ধুরবাল”। মনে মনে বিড়বিড় করতে করতে লিমন পিসির সামনে যেয়ে বসলো।লিমনের একটি বদ অভ্যাস আছে, ও খেতে অনেক বেশি ভালোবাসে। শরীরটা একদম প্যাকাটি সাইজের হলেও ও এক বসায় সুলতান্স ডাইনের একটি ৩ জনের প্যাকেজ শেষ করে দিতে পারে। ঢাকা শহরের প্রায় সব রেস্টুরেন্টেই ওর খাওয়া হয়ে গিয়েছে। মাঝেমাঝে ফুডব্যাংকে রিভিউ দেয় খাবার নিয়ে, ও মোটামুটি একজন সেলেব্রিটি ফুড রিলেটেড নিশে, তাই লিমনকে অনেক রেস্টুরেন্ট মালিকেরা ফ্রি তে স্পন্সর করে, ও খায় এবং খেয়ে রিভিউ দেয়। কিন্ত এখন সবই বন্ধ, তাই কেউ আর কোন খাবার স্পন্সর করছেনা। কোথায় গেলো সেই সুস্বাদু খাবার, কই গেলো সেই ঢাকার চিরচেনা রূপ। কথাটি মনে করে লিমনের বুকটা হাহাকার করে উঠলো।


লিমন বাইরে গেলো সিগারেট আনতে। লিমন মাস্ক ছাড়া বের হয়না। কিন্ত লিমন অনেক আত্বভোলা, মাস্ক কোথায় রাখে মনে থাকেনা ওর। তাই সব সময়ই মাস্ক পড়ে থাকে। লিমন সচেতন, ও মনে করে মাস্ক ভুলে যাওয়ার থেকে সবসময় পড়ে থাকাই ভালো। সিগারেট কিনে বাসায় ফেরার সময়ে ও ভুল করে ওদের বাড়ির পাশের বাড়িতে ঢুকে গেলো। পরে দারোয়ান চেনা হওয়ায় বাড়ি চিনিয়ে দিয়ে গেলো। লিমন নিজেকে গালি দিতে দিতে নিজের বাসায় আসলো। লিমনের মা লিমনের রুমে খাবার দিয়ে গেলো। লিমন একটু পরে খাবে বলে খাবার ঢেকে রাখলো।
রাত ২ টা, লিমন খাবার নিয়ে ওর কম্পিউটারের সামনে বসলো। চামুচ দিয়ে খায় লিমন। প্রথম বার খাবারর মুখে দিলো। মুখের সামনে অদৃশ্য কিছু একটা ওর খাবার আটকে দিলো, ওর ফেভারিট সিরিজ কন্সটান্টাইন চলছে কম্পিউটারে। ও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলো। ভাবলো মনের ভূল। আবার খাবার মুখে দিতে গেলো। নাহহ। এবারো মুখে গেলোনা খাবার। ব্যাপারটা কি!! লিমন ভয় পেয়ে গেলো। এরকম ট হওয়ার কথানা। এরকম হচ্ছে কেনো! বারবার চেষ্টা করতে থাকলো লিমন, প্রত্যেকবারই অসফল হচ্ছে লিমন। লিমন ভয় পাচ্ছে প্রচুর। ওর সারা শরীরে ঘাম। কি করবে বুঝে উঠতে পারছেনা। হটাত পিসিতে একটি ভয়ংকর চেহারা ভেসে উঠলো। চেহারাটা লিমনের দিকে তাকিয়ে হাসছে। বিকট হাসির শব্দে লিমনের কান ফেটে যাচ্ছে। লিমনের বুকে ব্যথা শুরু হলো। ব্যথার মাত্রা আস্তে আস্তে বেড়ে গেলো। মনে হচ্ছে ওর বুকে কেউ সুঁই ফুটিয়ে দিচ্ছে। লিমনের মুখ দিয়ে কোন শব্দ বের হলোনা। কাত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলো লিমন। চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেলো লিমনের।


লিমনের বাবা মা কিছু একটা ধপাশ করে পড়ার শব্দ পেলো। লিমনের বড় ভাই সুমন আর চাচাতো ভাই শান্ত ধাক্কিয়ে লিমনের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ফেললো। লিমনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তারা লিমনকে উঠিয়ে দ্রুত গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে গেলো। হাসপাতালের কোন ট্রলি বা স্ট্রেচার দেওয়া হলোনা। লিমনকে তারা করোনা রোগি সন্দেহ করছে। সবাই লিমনদের থেকে দূরে সরে গেলো। কোন ভাবে লিমনকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে গেলো। ডাক্তার রোগির সাথের কারো মাস্ক নেই দেখে রোগি দেখতে অস্বীকৃতি জানালো। লিমনের ভাই বাইরে থেকে একটা মাস্ক কিনে পড়ে ভিতরে গেলো। ডাক্তার লিমনের ইসিজি করে লিমনকে মৃত ঘোষনা করলো।
হাসপাতাল থেকে লিমনের লাশ দিবেনা। আগে তারা করোনা টেস্ট করাবে তারপর লাশ দিবে। সেটা অন্তত ১ সপ্তাহের ধাক্কা। পাশ থেকে একজন ওয়ার্ডবয় এসে সুমনকে ডেকে পাশে নিয়ে গেলো, বললো,”আপ্নেরা এখন অবস্থা ত জানেন ই, এহন টেস্ট ছাড়া ছাড়ুন যাইবোনা। কিন্ত যদি আমারে বিশ হাজার টেহা দেন তাইলে আপনের ভাইর লাশ আমি বাইর কইরা দিবার পারি। লাশ রে আর আজাব দিয়া দরকার নাই, টেকা দেন আমি সব কিছুর ব্যবস্থা করি, নাইলে এহনি কল দিতাসি করোনা টেস্ট করানের সেম্পল নিয়া যাক।” সুমন একথা শুনে ভয় পেয়ে গেলো। সুমন টাকা দিতে রাজি হলো।


কিছুক্ষন পর লিমনের লাশ বাইরে এলো। টাকা নিয়ে ওয়ার্ডবয় বিদায় হলো। চারপাশে লিমনের মা বাবার আহাজারীতে পরিবেশ ভারী হয়ে এসেছে। সুমন কোনমতে নিজেকে সামলে রেখেছে। এ্যাম্বুলেন্স আসলো, সুমন হটাত লক্ষ্য করলো লিমনের মুখে মাস্ক, সেই মাস্কে তরকারির ঝোল আর ভাত লেগে আছে। সুমন কিছু বুঝে উঠতে পারলোনা, লিমন কি মাস্ক পরে খাওয়াদাওয়া করতে চেয়েছিলো নাকি? সুমন এগিয়ে গিয়ে লিমনের মাস্ক খুলতে চাইলো, তখনি এম্বুলেন্স এর ড্রাইভার চিৎকার করে বললো, “করেন কি করেন কি!!! করোনা ছরাইবো তো। মাস্ক খুলেন ক্যা?” সুমন ভয় পেয়ে লিমনের মুখের মাস্ক আবার লিমনের মুখে লাগিয়ে দিলো।

Related posts
Story

Noob World: A Cyber Story

1 Mins read
ডেডলক বসে ছিলো তার ল্যাপটপ এর সামনে।নিচে সময় দেখলো,৩ঃ৪৭,২২/১/২০২৬এত রাতেও সে বসে আছে।এক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে তার কালি লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম…

Subscribe Now

Subscribe Me for Offers and New Blog posts

Leave a Reply